বুধবার । ৬ই মে, ২০২৬ । ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩

রূপসায় আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি, ভোগান্তি চরমে

এস এম মাহবুবুর রহমান ও শাহরিয়ার মানিক

৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৯ টাকা ব্যয়ে চার বছর আগে শুরু হয়েছিল রূপসা উপজেলার তিলক থেকে সামন্তসেনা সংযোগ সড়কের আরসিসি ব্রিজের নির্মাণ কাজ। কাজের মেয়াদ এক বছর হলেও গত চার বছরেও তা শেষ হয়নি। ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও এলাকার শিক্ষার্থীরা। ভোগান্তি থেকে বাদ পড়েনি পদ্মবিলের কৃষকেরা।

২০২২ সালের ১৪ জুলাই মেসার্স রূপালী কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আমিরুন এন্টারপ্রাইজ ও মোঃ আনোয়ার হোসেন নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্রিজটির কাজ শুরু করে। শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৩ সালে। কিন্তু দেখতে দেখতে ৪ বছর সময় গড়ালেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ। দেওয়া হয়নি মূল সেতুর দু’প্রান্তের সড়কের সাথে সংযোগ।

পাকা রাস্তার মাঝে আরসিসি ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে নতুন স্বপ্ন ও আনন্দের দানা বেঁধেছিলো। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নের ব্রিজ তাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির তিলক প্রান্ত খুলনা-মোংলা মহাসড়কের নিকটে হওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে এবং তিলকে অবস্থিত আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল চক্ষু হাসপাতালে যাতায়াত অনেকটা সহজ ছিলো।

ইতোমধ্যে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ ঠিকাদারের পকেটে গেলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয়নি। এ কারণে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের বাকি কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

পাথরঘাটা গ্রামের সাইদ বলেন, গত চার বছর ধরে এই ব্রিজ নিয়ে আমরা যে কতটা কষ্টে আছি তা বলার মতো বা দেখার মতো কেউ নেই। আমরা জমির ধান ভ্যানে করে নিতে পারিনা। ৩/৪ কিলোমিটার ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে যেতে হয়। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা ঘেরের বেড়ির উপর দিয়ে অনেক পথ ঘুরে যাতায়াত করে। ঠিকাদারের লোকজনদের বললে শুধু ওয়াদা দেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়না। বিভিন্ন জায়গা থেকে গাড়ি নিয়ে এসে এখান থেকে ঘুরে চলে যায়। এ যে কী দুর্ভোগ তা বলে বোঝাতে পারবো না।

তিলকগ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম গোলদার বলেন, এই সড়কটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর দু’পাশে ক্ষেত খামারে প্রচুর ফসল উৎপাদন হয়। ঘেরে রয়েছে মাছ। কিন্তু উৎপাদিত ফসলাদি নিয়ে আমরা যাওয়া আসা করতে পারিনা। তাছাড়া কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। গত চার বছর ধরে এই দুর্ভোগ আমরা পোহচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হলে আমাদের এই দুর্ভোগ লাঘব হবে।

পাথরঘাটা গ্রামের নিয়ামুল হোসেন বলেন, ব্রিজ করতে গিয়ে রাস্তার যে অবস্থা করে রেখেছে তাতে আমরা জমির ফসল তুলতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। আবার কেউ অসুস্থ হলে তাকে তিলক হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উপায় থাকেনা। এখানকার যে মূল ঠিকাদার সেতো আসেই না। আর যে সব সাব কন্টাক্টার আছে তারাও সাইডে আসেনা। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার কথা যতই বলি আমাদের কথা শোনেনা।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র বলেন, ‘জনসাধারণের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসে গিয়েছিলাম। কথাবার্তা যতটুকু হয়েছে তাতে আগামী জুন মাসে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমিরুন এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার জিয়া বলেন, ৮/১০ মিটার পাইল রড দিয়ে ঢালাই দিয়ে কিওরিং করতে সময় লেগেছে। দুই সাইডে ৩৩ ফুট গাইড ওয়াল পাশ করিয়েছি কাজের মান ভালো করার জন্য। যেহেতু আমি এই এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া গাইডওয়াল দিয়ে ১৩ ফুট এপ্রোস করতে হবে। কাজ বিলম্বের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই সাইডে গাইডওয়াল না দিয়ে এপ্রোসে বালু দিলে ভেঙে পড়তো। তাই গাইডওয়াল পাশ করাতে মূল কাজ শেষ হতে বিলম্বিত হয়েছে। তিনি বলেন আগামী দু’মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী শোভন সরকার জানান, ‘ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলমান আছে। ৮০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি কাজগুলো খুব দ্রুত শেষ করা হবে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন